রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:১৮ পূর্বাহ্ন

ইইউ-ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি: বড় চ্যালেঞ্জের মুখে বাংলাদেশের পোশাক খাত

নিজস্ব প্রতিবেদক ও বাণিজ্য ডেস্ক ঢাকা ॥
দেশের অর্থনীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার প্রধান উৎস তৈরি পোশাকশিল্প এখন ত্রিমুখী চ্যালেঞ্জের মুখে। একদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে ভারতের আসন্ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ), অন্যদিকে ২০২৬ সালে বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণ- সব মিলিয়ে বিশ্ববাজারে নিজেদের আধিপত্য হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন রপ্তানিকারকরা।

হুমকির মুখে ইউরোপের বাজার
একক অঞ্চল হিসেবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় গন্তব্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন। দেশের মোট পোশাক রপ্তানির প্রায় ৫০ শতাংশই যায় এই অঞ্চলে। বর্তমানে ভারত ইউরোপে পোশাক রপ্তানিতে ১২ শতাংশ শুল্ক দিলেও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হলে তা শূন্যে নেমে আসবে। বিপরীতে, বাংলাদেশ ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হওয়ার পর ২০২৯ সাল পর্যন্ত শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। এরপর নতুন কোনো চুক্তি না হলে বাংলাদেশকে ইউরোপের বাজারে ১২.৫ শতাংশ শুল্ক গুনতে হবে।

ফলে দীর্ঘদিনের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধার ক্ষেত্রে ভারত ও ভিয়েতনামের চেয়ে পিছিয়ে পড়বে বাংলাদেশ। উল্লেখ্য, ইইউ-ভিয়েতনাম চুক্তির কারণে ২০২৭ সালের মধ্যে ভিয়েতনামের শুল্কও শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে।

দেশীয় শিল্পের অভ্যন্তরীণ সংকট
বিদেশে শুল্কের রক্তচক্ষুর পাশাপাশি দেশের ভেতরেও পোশাক খাত বহুমুখী সংকটে জর্জরিত। ব্যবসায়ীদের মতে:

জ্বালানি সংকট: শিল্পাঞ্চলগুলোতে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় অনেক কারখানার উৎপাদন ক্ষমতা বর্তমানে ৩০-৪০ শতাংশে নেমে এসেছে।

উচ্চ সুদের হার: ব্যাংকঋণের চড়া সুদের কারণে নতুন বিনিয়োগ ব্যাহত হচ্ছে।

অবকাঠামো ও দক্ষতা: উন্নত অবকাঠামোর অভাব এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি পরিচালনার জন্য দক্ষ কারিগরি শ্রমিকের সংকট প্রকট।

সংশ্লিষ্টদের অভিমত
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, “ইউরোপ আমাদের প্রাণকেন্দ্র। ভারতের সাথে ইইউ-এর চুক্তি কার্যকর হলে তাদের সক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে যাবে। ভারত তুলা উৎপাদনে যে সরকারি সহায়তা পায়, তাতে তারা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তাদের লক্ষ্যমাত্রা ৩০-৪০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি বাড়ানো, যার বড় একটি অংশ আমাদের শেয়ার থেকেই তারা নিতে পারে।”

উত্তরণের পথ
বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, এই সংকট মোকাবিলায় সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে দুটি পদক্ষেপ নিতে হবে:

১. ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে জিএসপি প্লাস (GSP+) সুবিধা নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর আলোচনা শুরু করা।

২. প্রয়োজনে বড় বাজারগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করা।

দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সময়োপযোগী কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক পদক্ষেপের বিকল্প নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com